সরিষার তেল একটি জনপ্রিয় ভোজ্য তেল যা বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে সরিষার তেল একটি অপরিহার্য খাবার। এটি প্রায়শই রান্নার জন্য, সালাদ ড্রেসিং এবং অন্যান্য খাবারে ব্যবহার করা হয়।
সম্প্রতি সরিষার তেলের দাম বিশ্বব্যাপী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে। এর কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়া।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চাহিদা বৃদ্ধি।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উৎপাদন হ্রাস।
বাংলাদেশেও সরিষার তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে। ২০২৩ সালের শেষের দিকে, এক লিটার সরিষার তেলের দাম ছিল ১২৫-১৩০ টাকা। ২০২৪ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত, দাম বেড়ে ১৫০-১৬০ টাকায় পৌঁছেছে।
১. ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সরিষার তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হল সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়া। ইউক্রেন এবং রাশিয়া উভয় দেশই সরিষার তেলের প্রধান উৎপাদক। যুদ্ধের কারণে উভয় দেশের সরিষা উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী সরিষার তেলের সরবরাহ কমেছে এবং দাম বেড়েছে।
২. বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণেও সরিষার তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দার কারণে মানুষ কম ঝুঁকিপূর্ণ খাবার গ্রহণ করতে চাইছে। সরিষার তেল একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসাবে বিবেচিত হয়। তাই অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সরিষার তেলের চাহিদা বেড়েছে।
৩. জলবায়ু পরিবর্তন
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেও সরিষার তেলের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন এবং খরার মতো ঘটনার ফলে সরিষা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিশ্বব্যাপী সরিষার তেলের সরবরাহ কমেছে এবং দাম বেড়েছে।
উপসংহার
সরিষার তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে এবং এটি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে। এর কারণগুলি হল ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং জলবায়ু পরিবর্তন।
বাংলাদেশ সরকার সরিষার তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
সরিষা উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রণোদনা প্রদান।
সরিষা আমদানি বৃদ্ধির জন্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান।
সরিষার তেল আমদানির উপর শুল্ক কমানো।
এই পদক্ষেপগুলি সফল হলে সরিষার তেলের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

%20(10).jpeg)